ecommerce-ই-কমার্স-md-yousuf-munshi-yousuf-xyz

ই-কমার্স কি? ই-কমার্স শুরুর গাইডলাইন

বিনিময় প্রথা থেকে শুরু করে আজকের অনলাইন কেনাকাটা পর্যন্ত ব্যবসায়ের এক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। অনেক পরিবর্তন এসেছে ব্যবসায়। একের পর এক নতুনত্ব নিয়ে কাজ করছে মানুষ।

ব্যবসায়ের এই দীর্ঘ পরিবর্তনে ই-কমার্স এখন খুবই  জনপ্রিয়। ই-কমার্স নিয়ে কথা বলার আগে আমরা একটু ব্যবসা নিয়ে কথা বলে আসি।

ব্যবসা কি–  

ব্যবসা এক ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ড (বিজ্ঞান) যেখানে নির্দিষ্ট সৃষ্টিশীল ও উৎপাদনীয় লক্ষ্যকে সামনে রেখে বৈধভাবে সম্পদ উপার্জন বা লাভের উদ্দেশ্যে লোকজনকে সংগঠিত করা হয়,  এবং তাদের উৎপাদনীয় কর্মকাণ্ড রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। ব্যক্তির মুনাফা পাওয়ার আশায় পণ্যদ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপাদনের মাধ্যমে উপযোগ সৃষ্টি এবং মানুষের বস্তুগত ও অবস্তুগত অভাব পূরণের লক্ষ্যে সেগুলো বণ্টন এবং এর সহায়ক সবরকম বৈধ, ঝুঁকিবহুল ও ধারাবাহিক কার্যকে ব্যাবসা বলে।

অর্থাৎ মুনাফা অর্জনের আশায় পণ্যদ্রব্য পরিষেবা উৎপাদনের এবং বন্টনের কর্মকাণ্ড করা যেখানে থাকছে বৈধতা, ঝুঁকি এবং ধারাবাহিকতা। বিনিময় প্রথা থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ব্যবসার মধ্যে নানা ধরনের পরিবর্তন এসেছে। যেমন-

  • ট্রেডিশনাল বিজনেস
  •  ই-বিজনেস 
  •  ই-কমার্স

ট্রেডিশনাল বিজনেস এবং ই-বিজনেস সম্পর্কে আমরাও তো সবাই কমবেশি জানি। তবে যদি না জেনে  থাকি তাহলে অন্য কোন দিন আলোচনা করব। আজকের আলোচনার বিষয় ই-কমার্স। 

ই-কমার্স-

ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই-কমার্স একটি বাণিজ্য ক্ষেত্র যেখানে কোন ইলেকট্রনিক সিস্টেম (ইন্টারনেট বা অন্য কোন কম্পিউটার নেটওইয়ার্ক) এর মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয়/ বিক্রয় হয়ে থাকে। আধুনিক ইলেকট্রনিক কমার্স সাধারণত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর মাধ্যমে বাণিজ্য কাজ পরিচালনা করে। অর্থাৎ ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন ও সুবিধা ব্যবহার করাকে ই-কমার্স বলে।

ecommerce-ই-কমার্স-md-yousuf-munshi-yousuf-xyz
ecommerce-ই-কমার্স-md-yousuf-munshi-yousuf-xyz

যুগের পরিবর্তনে ই-কমার্স অনেক বেশী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঘরে বসে এক ক্লিকে পন্য কেনার প্রতি সবার আগ্রহ বেশী। অনলাইনে কেনাকাটা এখন এতটাই সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে আমরা এতে বেশ অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। যানজট ঠেলে, বাজার ঘুরে দরদাম করে পছন্দের জিনিসটি কেনা এ দেশের মানুষের চিরায়ত অভ্যাস হলেও এই অভ্যাসের ফাঁকফোকর দিয়ে কখন যেন ঢুকে পড়েছে অনলাইনে কেনাকাটার প্রবনতা। তাই আজকাল অনেকেই শপিং করার জন্য আর বাজারে যেতে চায়না বরং ঘরে বসেই অনলাইনে শপিং করার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক ই-কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলো ইতিমধ্যেই মানুষের কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।  আপনি চাইলে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। কিন্তু এই তুমুল প্রতিযোগিতার ভিরে আপনি টিকে থাকতে পারবেন কিনা সেটাই মূল বিষয়। তাই  ই-কমার্স শুরু করার আগে কিছু বিষয় আপনাকে অবশ্যই জেনে এবং বুঝে নেওয়া উচিত।

ই-কমার্স ব্যবসার মানসিক প্রস্তুতি- 

যদি ই-কমার্স শুরু করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার কিছু মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে বুঝতে হবে যে আপনি মানসিকভাবে প্রস্তুত কি না এই ব্যবসায় এর জন্য। চলুন একটু আলোচনা করা যাক-

  1. আপনি শেষ পর্যন্ত লেগে থাকবেন কি না ?
  2. মানসিক প্রেসার নিতে পারবেন কি না?
  3. আপনি কি একজন সারভাইবার?
  4. সর্বদা কঠোর পরিশ্রমের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারবেন কি?
  5. আপনি যা করছেন বা শুরু করতে যাচ্ছেন তা সত্যিই আপনি ভালোবাসেন তো?

প্রথমে আপনি নিজে নিজের সাথে কথা বলুন। একটু সময় নিন এবং ভাবুন। এই প্রশ্ন  গুলোর উত্তর আপনার কাছে আছে কি?  যদি উত্তর থাকে তা কি আপনার জন্য সঠিক নাকি ভুল? এই মানসিক প্রশ্নগুলোর উত্তর অবশ্যই আপনার কাছে হ্যাঁ হতে হবে।  যদি আপনি মনে করেন এই প্রশ্নের উত্তর আপনার কাছে হ্যাঁ আছে তাহলে আপনি ই-কমার্স এর দিকে অগ্রসর হতে পারেন।

ই-কমার্স ব্যবসায়ী হিসেবে আপনার গুণাবলী- 

একজন ই-কমার্স ব্যবসায়ী হিসেবে আপনার কিছু গুণাবলী থাকা অবশ্যই জরুরি। চলুন তাহলে একটু দেখে আসি গুণাবলী গুলো- 

  1. সুযোগ সন্ধানী
  2.  অধ্যবসায়
  3.  কাজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা
  4.  যোগ্যতা ও দক্ষতার চাহিদা
  5.  ঝুঁকি গ্রহণ
  6.   লক্ষ্য নির্ধারণ
  7.  তথ্য অনুসন্ধান
  8.  সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও পরিচালনা
  9. আত্মবিশ্বাস

একজন ব্যবসায়ী হিসেবে এই গুণাবলী গুলো আপনার অবশ্যই প্রয়োজন। শুধুমাত্র ব্যবসায়ী হতে যে গুণাবলী গুলোর প্রয়োজন হয় একজন ই-কমার্স ব্যবসায়ী হিসেবে আপনার তা থেকে বেশি গুণাবলী থাকতে হবে।

একজন ই-কমার্স ব্যবসায়ীর চ্যালেঞ্জ সমূহ- 

ই-কমার্স ব্যবসায়ী হিসেবে আপনার সামনে অনেক সমস্যা এবং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়াবে। যে চ্যালেঞ্জ গুলোর মোকাবেলা আপনাকেই করতে হবে। চলুন একটু দেখে আসা যাক-

  1. পণ্যের সোর্স ঠিক রাখা
  2. কাস্টমার রিপিট করা 
  3. লংটাইম প্রফিট অর্জন করা
  4. সঠিক কাস্টমার টার্গেট করা
  5. ভালো কাস্টমার সেবা প্রদান করা
  6.  কাস্টমারকে পুনরায় টার্গেট করা
  7. ডেলিভারি সিস্টেম ঠিক রাখা
  8. সঠিক টেকনোলজি এবং টুলস ব্যবহার করা
  9. রেগুলার কনটেন্ট তৈরি করা
  10.  কাস্টমারের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা

 এই চ্যালেঞ্জ গুলো নিয়ে আপনাকে কাজ করতে হবে। যেন আপনি এই চ্যালেঞ্জ গুলো সঠিকভাবে সম্পূর্ণ করতে পারেন।

ই-কমার্স সম্পর্কিত এখন আপনি অনেক কিছুই জানেন। তবে এখন আপনার প্রথম কাজ হবে আপনি যে টার্গেট মার্কেট নিয়ে কাজ করবেন সেটা ভালোভাবে  রিসার্চ করা।  কারণ আপনি মার্কেট থেকে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করেই সামনের দিকে অগ্রসর হবেন। আপনি মার্কেট রিচার্জ করার পরেই প্ল্যানিং স্টার্ট করতে পারবেন। কারণ মার্কেট রিসার্চ করার আগে আপনি সঠিক পণ্য সিলেক্ট করতে পারবেন না যে আপনি কোন পণ্য নিয়ে কাজ করবেন বা আপনার জন্য কোন পণ্য নিয়ে কাজ করা উচিত।  তাই ভালোভাবে মার্কেট রিসার্চ করে সঠিক  পণ্য নির্বাচন করে  পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু করে দিন।

শেষ কথা- 

 যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যবসায় পরিবর্তন ঘটছে। সেই সাথে বাড়ছে তুমুল প্রতিযোগিতা। তাই এই প্রতিযোগিতার মাঝে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই আপনাকে জেনে বুঝে তারপর শুরু করা উচিত। কারণ মনে রাখবেন আপনার কম্পিটিটররা  থেমে নেই।

আমার এই লেখা থেকে আপনি কি শিখলেন এবং আপনার মতামত অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন।

3 thoughts on “ই-কমার্স কি? ই-কমার্স শুরুর গাইডলাইন”

  1. ই-কমার্স ওয়েবসাইট ব্যবসায়িক সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে। সবাই কঠোর পরিশ্রম করলে সফল হতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ ব্লগের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *